Friday, November 11, 2022

 যেমন করে তার মুখ মেঘ-মালা 

কি অবুঝে সেতারে টেনেছে অবেলা 


এক যে রাজা, এক যে রানি 

বড়ো অভিমানী, তাই এই অভিধানী 


সুরে সুরে জেগেছে, তোমার আমার--

বড্ড  খামখেয়ালি, বেসুরে সংসার ।



Wednesday, October 5, 2022

 ।।পথে-পার্বণে ।।


১)


জানালাটা দিয়ে সবে রোদ উকি মারছে । এবার এসপ্ল্যানেড নেমে পড়তে হবে। আবির প্রতি বছর এই সময়টা ট্রামে চড়ে ঠিক এখানে এসে নামে । নীরা এসেছে । পড়নে হাল্কা খয়েরি, লাল পাড়ের শাড়ি,  ঠিক রাস্তার ওপাশে কিছু ফুল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে । আবিরের হাতে একটা ক্যাডবেরি । দূর থেকেই চোখে চোখ পড়লো । 


ঠিক বছর পাঁচ আগের  কথা । দুজনেই বাঁকুড়া থেকে, কলকাতাতেই এই ট্রামে প্রথম আলাপ। সেই থেকে বন্ধুত্ব, প্রেম। এই দিনটা শুধু ওরা দুজনেই দুজনের জন্য রাখে । দুজনের পচ্ছন্দ মত  পূজা মণ্ডপে ঘোরে, এরপর দুপর পেড়িয়ে গেলে রাস্তার পাশে দেখে শুনে একটা সাদামাটা রেস্তোরায় ওরা খাবার খায় । নিজেদের খেয়ালে এরপর পায়ে হেটে শহর ঘুরে বেড়ায়। সন্ধ্যে হলে যার যার গন্তব্যে ফেরে ।


তোমার এত দূর থেকে আসতে কোনও সমস্যা হয়নি তো ?

একদমই না......। সামান্য কিছু, আগে খেয়ে নিবি ?

চলো ।


বলি, এইবার অন্য কিছু, অন্য ভাবে হোক।

বেশ, চলো ।


গঙ্গার ঢেউ খেলানো প্রশান্তি ওদের চোখে এসে লাগে । ওরা একে অপেরের দিকে আরও কাছ থেকে তাকায় । নীরার পরনে টিপ, ওর ছলছলে চোখ আবিরকে কোন আবেশে কিছু সময়ের জন্য খেই হারিয়ে রাখে।  নীরাও বেশ  জানে এই চোখেই আবিরের আশ্রয়, একটু লজ্জাও পায়। নীরা কিছু বলতে চায়, তার আগেই......


আমার এবারো চাকরিটা হয়নি।

আমি জানি

তবে ?

তবে কি?

আমি কোনও চাকুরীজীবী নই, আমি কোনও সুনীলও নই, কোন আবেশে তুই আমার সাথে থেকে যেতে চাস এই ভেবে আমার বেশ শিহরন হয়। আমার দেয়ার মতও কিছুই নেই, একমাত্র আমি ছাড়া ।আমাকে দেশে ফিরে যেতে হবে। 


সারা শহর জুড়ে এক ভীষণ মুগ্ধতা। চারদিকে বেশ কোলাহল । 

নীরাও বেশ হাসে। এবারের পার্থক্য শুধু চোখের কোনে সামান্য জল ।


********************************************************************************************



২) 



ঝমঝমে বৃষ্টি । বছর দশেক পর ছাড়া পেয়েছে এক কয়েদি ।

বাতিঘর আস্তানা। মেঘপিওন ভীষণই বেসামাল ।


বন্দরে খোঁজ নেই,  অপেক্ষা সমুদ্রের ঢেউ---

মফস্বলে সপ্তাহ খানেক দেখা নেই সমীর ও শ্রুতির 


নিশীথের দাগ, বিরহ বিছিয়ে রেখেছে কাক 

পথে পথে সেজেছে জাগ্রত প্রহরী,  অভিযাত্রীর দল 


একেমন চেনা জানা মুখ, জমকালো সংসার--  


এবার মণ্ডপে সবাই খেলে গেছে তাস ।


Tuesday, July 5, 2022

জীবন নাও। এক্টু খানি দাও
যে তিথিতে যাও, নিজেকে জত্ন নিও




 আমি অনেক অশান্ত এখন,

ঘুম ভাঙ্গার আগে ছিলুম না আমি এরকম,
আরেকটু ঘুম যদি কেউ এনে দিতো

যাচ্ছে সে, অনাদি কাল ধরে যাচ্ছে,
ভোরের কুয়াশা ছাড়িয়ে কাঁটা বিঁধা পায়ে,
পাহাড়ের ঢাল বেয়ে, অর্ধনগ্ন সে যাচ্ছে............


২১/০৬/২০১৬

Tuesday, June 28, 2022

শহরে সন্ধ্যা নামে। নিজের মত করে 

বেজে উঠে শাঁখ।


ভ্রমনপঞ্জি  ডান হাতে রাখা

চোখের গভীর থেকে ভাসিয়ে দেই গাছের চরুই,

একটা বড় খাল, নদীর চর, ভিজে মাটিতে 

আশ্বিনের পূর্ণিমা।


এরপর তার পা হেটে গেছে সারা পাথরের পথ......।


Saturday, May 28, 2022

 ।। একটি অনুগল্প ।।


ক্রমাগত কিছু শব্দ ঘুরেফিরে আসছে । এই শহরে পথ হাটতে হাটতে ভাবনায় ডুবে যায় শোভন । কবে যে কোথায় রেখে গেছে জানা অভিমান, তাই ইচ্ছে করেই রাস্তা আর বদলায় না।


দু'দিকে গাছের পাতাগুলো এখনো বৃষ্টি ছুঁয়ে দেখেনি, ঘোর রৌদ্রে পুড়ে গেছে যেনো অর্ধেক পৃথিবী । চোখ ঝলসে যাওয়া একদল কুকুর কোন অসুখে ঠিক চলে যায় উল্টো পথে, যেখানে কোনও উচ্ছিষ্টও নেই । ফেরিওয়ালাও এখানে  ক্লান্ত মুখে ভুল সুরে হাঁক ডাকে । নাবিকেরা এখানেতো  কতকাল ধরেই পথিক ।


কে গান গায় ? কে বাঁশি বাজায় ?


এই শহরে রাত নেই, ছায়া নেই 

শহর পেরিয়ে নদীর কাছে যাওয়ার প্রশ্নতো নেই ই


ক্রমাগত কিছু শব্দ বারবার তার কানে ঘুরেফিরে আসছে


একদিন এই শহরেও  ম্যাগনোলিয়া ফুটতো .........



২৯/০৫/২০২২


Monday, February 28, 2022

তারা পাখীর নীড়ের মতো করে তিলে তিলে কুটির বেঁধেছে
তাদের ঘর এখন সমুদ্রের তটে; এখন প্রতিদিন তারা
সুর বাঁধে পরন্ত বেলায় । কিছু পাখী, কিছু জন পায়ে হাটা,
আর হাওয়া হাওয়া করে উড়ে বেড়ানো কেশ, এসব ছেড়েও
তাদের চোখ থাকে অমলিনের আয়নায়; পরন্ত সূর্যের লাল টুকটুকে
চোখ আরামের মত, তারা দেখে - এতো লাবন্য, এতো মায়া …...।
তারা এখন এতো মাছেভাতে নয়, মাঝে সাজে রান্না হয়, আর ছলে যা হয়
কুটির-কোণ থেকে কান পাতলে খিল খিল শোনা যায়-

শালি; অন্যমুখে - ইস লজ্জা ছাড়া......

তারা সন্ধ্যাকে দুহাত ভরে আমন্ত্রণ করে; প্রদীপ জ্বলে ওঠে ঘরে ,
একজন কিছু একটা বই পড়ে, অন্যজন থাকে গল্পের ছলে; অতঃপর
মধ্য রাতে ঘুম নেই, খোলাকাশে তারার সাথে গল্প জমে।

এভাবেই ঘুমে অঘুমে সকাল হয় ,শুরু হয় এবার নতুন দিনের থালা খোঁজা - হিরন্ময়--
থালাতে চোখ দু জোড়া পাতা; নতুন দিনে আবার তারা মুখশ্রী আয়না খোঁজে ;
বুকে আচর কেটে কেটে দিনের কোণে আবার আনে রাত ;

তখন আকাশবাণীও কি চিরন্তন ঝরে-

এ কেমন বিঁধিল প্রেম, নয়নে নয়ন ঝরে, নিশিতে নিশিথ মেলে
মন- মৃগয়া ফেরে ঘরে, তবুও হয়না খেলা সাড়া ।।

Sunday, January 9, 2022

বিহঙ্গরা ডাক দেয়। ভোর হয়ে আসে।
প্রস্থান। সন্যাসি বেরিয়ে পড়ে রাস্তায়। 
খেয়ালের গান। ভেসে আসে অন্য পাড়ে......

শূন্য ঘর থেকে যায়। অধরা আশা, নিরবাসনায়...
প্রিয়মুখ। বিদায় যাত্রা কেমন যে বাজে ।
গভীর বনের ভিতর। যেমন করে বেলা যায়।
যেমন করে জ্যোৎস্নারা সারারাত কাঁদে । 

বিহঙ্গরা ডাক দেয়। ভোর হয়ে আসে......

Saturday, May 30, 2020

১)তোমার নাম কেউ কোনদিন ডাকেনি -
 তুমি জন্মেছ, ঠিক পরেই 
 ঝর এসে তোমাকে 
 মৃত্যুর কাছে টেনে এনেছে 
 -তুমি মৃত্যুতে অবশেষে পেয়েছ তোমার জন্মদাগ।

২)তুমি হেরে যেতে যেতে ঠিক জিতে যাও -
দ্বিধাহীনভাবে নিজেকে ভেঙ্গে  টুকরো করে 
অপরকে চিনিয়ে  রাখো 
যেন যুদ্ধটা কেবলি তোমার 
-তুমি ক্রমেই গাছ হয়ে উঠ। 

৩) তোমার মাটির ঘর, মাটির শরীরে ভাঙ্গন ধরেনা -
সমগ্র দ্বীপ কুঁড়িয়ে কুঁড়িয়ে
অশরীরী পিণ্ড মুখে তুলে নিলে
তোমার নরম বুক বিঁধে শক্ত হয়ে উঠে

- তোমার চোখের কাছে এসে ঝর থেমে যায়।

Monday, May 18, 2020

আজ এক পশলা বৃষ্টি আসলে ভালো হয়।
কে যেনও দরজায় কড়া নাড়ে, আহা আর কতো
সানাইএর সুরে ভেসে গেছে চৌমাথা...

কোন দিন শুনেছ পিচ রাস্তায় নখের থাবা…?
আমরন ধর্মঘট মিলেমিশেও বাঁচাতে পারে না ভাঙা থালা
পাথরের সাথে বিকিয়ে দিয়েছে যা শেষ সম্বল -ওইতো ফুটো আনা ।

যার মুখ আগুনের মত পুড়েছে, তবু গান ধরেছে মুখে
তাকে শান দিতে ভালো লাগে……
আর্তনাদ! এক ট্রাক লোহা এনে, পিটিয়ে পাঁচিল করে দেয়।

ওরা সংসার পাতে ভাঙা রাস্তায়, যা কিছু ভেঙ্গে যায়
শুধু সংসার ছাড়া । পুতুলের বিয়ে দেয়…।
বারুদের ছাই লেগে থাকে সাড়া গায়।

কে যেনও দরজায় কড়া নাড়ে, আহা আর কতো
সানাইএর সুরে ভেসে গেছে চৌমাথা...


আজ এক পশলা বৃষ্টি আসলে ভালো হয়।

Tuesday, May 12, 2020

কিছু গান কোনদিনই গাইতে নেই। 
সীমান্ত ছাড়িয়ে তুমি ওপার দেখেছ
কিন্তু সীমান্ত পেরোতে পারোনি। 
পাখিদেরও ভুল হয়, ওরা তবু গান ছাড়ে না
মায়া রেখে যায় প্রতিদিন তোমার ব্যাল্কনিতে  
তুমি তাকে রাখতে জান না ।

আমার যা নেই ওদের দেখে সুখ পাই
এইতো সহজ পদ, সহজ সুন্দর ।
কিছু গান কোনদিনই গাইতে নেই

অনুভবে থেকে যেতে হয় ।


হলদে মাখা কথাটা, একটু সহজ করে বল 
অতিদূর-  কেউ নিরবে, কেউ জনমানব।
কখনো ঘুমের ঘোরে কতটুকু বিস্মৃতি ঘটলে
আজ এতও সুস্থ্য থাকা যায়।

দিগন্তের দিকে একবার সূর্যের মায়ায় হাত বুলই
আমার  খেয়াল পরে- হটাত চোখের কোনে জল। 
যদি মেঘ হতে নীলিমার নীল ঘনিয়ে আসতে জানে
তার চোখের রঙে -
সারাদিন সমস্ত উপদ্বীপ একলা আমার-

আগুনের রঙে এতো আলো
পাষাণের মতো পুড়ে যেতে ইচ্ছে হয়।

২৮/১১/২০১৬

হলদে মাখা কথাটা, একটু সহজ করে বল 
অতিদূর-  কেউ নিরবে, কেউ জনমানব।
কখনো ঘুমের ঘোরে কতটুকু বিস্মৃতি ঘটলে
আজ এতও সুস্থ্য থাকা যায়।

দিগন্তের দিকে একবার সূর্যের মায়ায় হাত বুলই
আমার  খেয়াল পরে- হটাত চোখের কোনে জল। 
যদি মেঘ হতে নীলিমার নীল ঘনিয়ে আসতে জানে
তার চোখের রঙে -
সারাদিন সমস্ত উপদ্বীপ একলা আমার-

আগুনের রঙে এতো আলো
পাষাণের মতো পুড়ে যেতে ইচ্ছে হয়।

২৮/১১/২০১৬

Sunday, May 10, 2020

যারে খুঁজি দিবা-রাতি, চেয়ে কাল সিন্ধু পানে
সে যে সুনয়না, শীতল প্রান সুবাস-চন্দনে।

সে সারাবেলা করে খেলা, অকপটে গায় গান,
জানেনাকো সে হৃদয় দোলায় দুলিছে কার প্রান।
আজি তার চোখে না পাওয়া, ঝরে যাওয়া হাসি 
কি গহন সুরে ধরিয়েছে আমায়  বিরহ গান ।।

সে যদি আসিবে কভু ভোরের মুকুল হয়ে
কেন বিরহ-দলে রেখেছ মোরে, অজানার করে।
যদি কভু ঝড়ে, ঝরে যায় ফুল, শুকনো প্রান
শোকে তখন নিরুপায়ে জড়াবে মাটি ‘পরে ।।

তখন সকল চাওয়া, সকল পাওয়া, পড়ে রইবে ভুলে
কেঁদে কেঁদে নীরব- প্রেম,জাগিবে সুখ-তারারই কূলে ।।


২৮/৬/২০১৬

Friday, May 8, 2020

সে আমার ঘর হাজার বছরের
কতদূর কত পথ ক্লান্ত হয়ে আসি 
পাখিদের গান শোনা হয়নি কতদিন
একদণ্ড শুধু পৌঁছতে চাই ।


দেখি পাহাড়েরা সারে সারে জেগে ওঠে
তবু আকাশ বড় একা
মেঘেরাও কোনদিন তার ভাগ দিতে শেখেনি
বৃষ্টির মত করে ঝরে যেতে  চায়
ঠিক যেমন করে চোখের আলিঙ্গনেও
চোখের আশ মেটে না
ঝরে পরে পথ থেকে পথে
পাহাড় ছাড়িয়েও  নদীর সিমানায়


এমন ও করে চেয়ে থাকা যায়!


দিনের পরে রাত বয়ে যায়
পাহাড় নদী  ছাড়িয়ে মৃত্যুপুরিও পাড় হয়ে আসি
থেকে যায় ছাই মাখা হাত
প্রতিদন ভালবেসে যারা ব্যঙ্গ করে
আমি অন্ধকারে বারে বারে পথ ভুলে যাই


এরপরেও জানি এ ক্লান্তি ক্লান্তিতো নয়
কতটুকু পুড়ে গেলে কতটুকু
হিসেবে যে ঘর বেধে রাখে
সে ঘর ষোলোআনা
সেখানে কোনদিন ফিরানো যায় না
শুধু পৌঁছতে হয়


 কতদূর কত পথ ক্লান্ত হয়ে আসি 
পাখিদের গান শোনা হয়নি কতদিন
একদণ্ড শুধু পৌঁছতে চাই ।


সে আমার ঘর হাজার বছরের
…………………………………...।।

----------মানবেন্দ্রনাথ

৮/৫/২০২০

Wednesday, May 29, 2019

মুখের আদল । হাজার বছরের শিলালিপি
উপনিবেশ গড়ে। বহুদুর রেখে যায় ক্ষত।
কোন-কালে যে প্রেম বিদায় জানাতে গিয়ে
সিঁড়ি ভেঙ্গে থুবড়ে পড়ে যায়। নগরীর বুক
সেই দাগ আজীবন ফেরী করে ফেরে

জনান্তর কেটে যায়। সব সঞ্চয় শুক্তির খোঁজে
বারে বারে ফিরে আসে ঢেউ।  তবু

আর আমি তোমাকে অন্ধের মতো চিনে ফেলি ।

Friday, May 10, 2019

আমার অন্ধঘরে, অন্ধকারে কে মলিন হলে যুগান্তরে
কেগো শুনিয়েছিলে দহন জ্বালি আপনমনে। কার জঠর
শুকায় পায়ের ধূলায়, রক্তস্নানে…...। কার কাজল ঘন
চোখের পাতায় বিষমখালি বিসর্জন আপনি আনে
……………………………………………………………………..।।



Thursday, September 13, 2018




বৃষ্টি এসেছিলো, মুখমুখি তবু বসা হয় নি...
ডাকপিয়ন বলেছিল- ওইদিন ঘুমিও না বাবু
সেতারে আঙ্গুল ছুয়ে ভোর আনবে সে...
বিনিময়- শুধু  চোখের খাঁদে চোখ ফেলে রাখা।।

কতো গান, কতো ছন্দ পাথরের বুকে তুল্লে তুমি--


খানিকটা জঙ্গল শহরে রেখে গেছে কেউ
সেখানেই কবে যে ঘুম পাড়িয়ে রেখে গেছে.....।।




Saturday, July 21, 2018

মেঘেদের ডাকনাম প্রবাসীর ঘরবাড়ি। চাঁদ আপোষ করে জেনে
জ্যোৎস্নায় থেকে গেছে ঋণ। নরম হাত ছায়াপথ টানে।

Tuesday, July 10, 2018

মেঠো পথ ছুয়ে গেলো নিটোল পায়ের ছাপ
গোধূলি ফিরে যায় শয্যায় পাখিদের গানে।
চোখের গভীরে যার থেকে গেছে অভাব
সে জানে। সীমান্ত ছাড়িয়ে চেয়ে থাকার মানে।

পথের ব্যবধানে কারা যেনও রেখে যায় মাপ
মেঘেরা একবেলা ছুটি চায়। দূরে কতো আলো।
ব্যথা-মোড়া ছেড়া গল্পেরা বসে জুড়ে অনুরাগ
‘আমি’ নাহয় ‘জলসাঘরে কালো’।’তুমি’ বরাবরই ভালো।


হাতের পরাগ লিপিমালা খসে পড়ে জলাশয়ে
ছন্নছাড়া দলেদলে আকাশে বেজে ওঠে বাণী।
যাকে রেখে যাবে বলে কথা ওঠে মাঝপথে
তার মুখখানি শীতলদীঘি। শুধু ঠোঁট  অভিধানী।


মন্দা প্রান পায় থান। কোমল পাথরের বুকে
ঝোড়ো হাওয়ায় দুঃখ ভোলে। ফিকে ফুলের রেণু ।
তারা হাজার বছর গান বেঁচেছে। তবু ভালবেসে
যেখানে সুর অ-সুরে লয় সেখানে বাজেনা বেণু ।
                                    
পতঙ্গ-বুক উঠে ফেঁপে। দাবানলে সমীরণ
চাতক শরীর বন্ধকীনি। বৃষ্টি আসে আষাঢ়ে।
অসুখি পাড়ায় সুখ বুনেছে। জ্বর করেছে একদিন
স্বপ্ন ভেঙ্গে দিলে জমেনা ঋণ। স্বপ্ন- কারিগরে।


মরুদ্যানে সাজে খেলাঘর। দ্বীপ জ্বালে দ্বারে
জোনাকি-প্রবাসী-যামিনী-যাপন। তারারাও একা।
যার অলিন্দ অনাবাদী। পাপড়ি ফোঁড়ে সঙ্গোপনে
বুক খুঁড়ে বসে থাকে। কোথায় যেনো..টানে যবনিকা।।