।।পথে-পার্বণে ।।
১)
জানালাটা দিয়ে সবে রোদ উকি মারছে । এবার এসপ্ল্যানেড নেমে পড়তে হবে। আবির প্রতি বছর এই সময়টা ট্রামে চড়ে ঠিক এখানে এসে নামে । নীরা এসেছে । পড়নে হাল্কা খয়েরি, লাল পাড়ের শাড়ি, ঠিক রাস্তার ওপাশে কিছু ফুল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে । আবিরের হাতে একটা ক্যাডবেরি । দূর থেকেই চোখে চোখ পড়লো ।
ঠিক বছর পাঁচ আগের কথা । দুজনেই বাঁকুড়া থেকে, কলকাতাতেই এই ট্রামে প্রথম আলাপ। সেই থেকে বন্ধুত্ব, প্রেম। এই দিনটা শুধু ওরা দুজনেই দুজনের জন্য রাখে । দুজনের পচ্ছন্দ মত পূজা মণ্ডপে ঘোরে, এরপর দুপর পেড়িয়ে গেলে রাস্তার পাশে দেখে শুনে একটা সাদামাটা রেস্তোরায় ওরা খাবার খায় । নিজেদের খেয়ালে এরপর পায়ে হেটে শহর ঘুরে বেড়ায়। সন্ধ্যে হলে যার যার গন্তব্যে ফেরে ।
তোমার এত দূর থেকে আসতে কোনও সমস্যা হয়নি তো ?
একদমই না......। সামান্য কিছু, আগে খেয়ে নিবি ?
চলো ।
বলি, এইবার অন্য কিছু, অন্য ভাবে হোক।
বেশ, চলো ।
গঙ্গার ঢেউ খেলানো প্রশান্তি ওদের চোখে এসে লাগে । ওরা একে অপেরের দিকে আরও কাছ থেকে তাকায় । নীরার পরনে টিপ, ওর ছলছলে চোখ আবিরকে কোন আবেশে কিছু সময়ের জন্য খেই হারিয়ে রাখে। নীরাও বেশ জানে এই চোখেই আবিরের আশ্রয়, একটু লজ্জাও পায়। নীরা কিছু বলতে চায়, তার আগেই......
আমার এবারো চাকরিটা হয়নি।
আমি জানি
তবে ?
তবে কি?
আমি কোনও চাকুরীজীবী নই, আমি কোনও সুনীলও নই, কোন আবেশে তুই আমার সাথে থেকে যেতে চাস এই ভেবে আমার বেশ শিহরন হয়। আমার দেয়ার মতও কিছুই নেই, একমাত্র আমি ছাড়া ।আমাকে দেশে ফিরে যেতে হবে।
সারা শহর জুড়ে এক ভীষণ মুগ্ধতা। চারদিকে বেশ কোলাহল ।
নীরাও বেশ হাসে। এবারের পার্থক্য শুধু চোখের কোনে সামান্য জল ।
********************************************************************************************
২)
ঝমঝমে বৃষ্টি । বছর দশেক পর ছাড়া পেয়েছে এক কয়েদি ।
বাতিঘর আস্তানা। মেঘপিওন ভীষণই বেসামাল ।
বন্দরে খোঁজ নেই, অপেক্ষা সমুদ্রের ঢেউ---
মফস্বলে সপ্তাহ খানেক দেখা নেই সমীর ও শ্রুতির
নিশীথের দাগ, বিরহ বিছিয়ে রেখেছে কাক
পথে পথে সেজেছে জাগ্রত প্রহরী, অভিযাত্রীর দল
একেমন চেনা জানা মুখ, জমকালো সংসার--
এবার মণ্ডপে সবাই খেলে গেছে তাস ।